
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
সম্মিলিত সার ডিলার নিয়োগ ও সার সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ বাতিল এবং পূর্বের নীতিমালা বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে খুচরা সার বিক্রেতারা।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে পিরোজপুর শহরের সিইও অফিস চত্বরে খুচরা সার বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সার বিক্রেতারা অংশ নেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, খুচরা সার বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শেখ ওবায়দুল্লাহ, পিরোজপুর সদর উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রুম্মান, স্বরূপকাঠি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বাদশা শেখ, জিয়ানগর উপজেলা সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমায়েত শেখ, সদস্য আসাদ, হুমায়ুন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ১২.০০.০০০০.০৩১.৪০.০০.২৫.১৮ অনুযায়ী প্রকাশিত ‘সম্মিলিত সার ডিলার নিয়োগ ও সার সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ গত ১৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। নতুন নীতিমালায় দেশব্যাপী সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে এবং পৃথকভাবে খুচরা সার বিক্রেতা রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।এতে বলা হয়, আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ সালের মধ্যে বিদ্যমান খুচরা সার বিক্রেতাদের সব দায়-দেনা নিষ্পত্তি করতে হবে এবং ততদিন পূর্বের নিয়মে সার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম চালানো যাবে না—এমন সিদ্ধান্তে সারা দেশের প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা চরম হতাশায় পড়েছেন।বিক্রেতারা জানান, দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা পৈতৃকসূত্রে ও সুনামের সাথে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে এবং বিপুল পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা কৃষকদের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেন। অনেক ক্ষেত্রে মৌসুমে কৃষকদের হাতে নগদ অর্থ না থাকলেও বাকিতে সার সরবরাহ করেন, যা কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে তাদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কা তৈরি হবে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে তারা চরম সংকটে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়ে খুচরা সার বিক্রেতারা নীতিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা করে তা স্থগিত ঘোষণা এবং পূর্বের নীতিমালা বহালের দাবি জানান।