1. multicare.net@gmail.com : আমাদের পিরোজপুর ২৪ :
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিএনপি এদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে…. গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষ বরণ উদযাপন মঠবাড়িয়ায় ভুয়া চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিককে কারাদণ্ড পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন বাংলা নববর্ষের ইতি কথা ইতিহাস ঐতিহ্যে বাঙালির নববর্ষ মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রত্যাহারসহ সাত দিনের আলটিমেটাম বসন্তের শেষ লগনে ঝালকাঠির জলাশয়ের টগর ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত পথচারীরা হারানো বিজ্ঞপ্তি কাউখালীতে সরকারি নির্দশনা অমান্য করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় জরিমানা গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হলেন হুমায়ুন রশিদ

ঝালকাঠির সম্ভাবনাময় মুড়ি শিল্প! হাতে ভাজা মুড়িতেই স্বাবলম্বী জেলার ২০ গ্রামের নারী – পুরুষ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ২০৫ বার পড়া হয়েছে

ওমর ফারুক ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

রমজান মাস এলেই ব্যাস্ততা বহুগুণে বেড়ে যায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়ার মুড়িপল্লীতে। এ সকল গ্রামের শতাধিক পরিবার যুক্ত মুড়ি ভাজা এবং তা বিক্রির কাজে।যুগ যুগ ধরে বংশ পরস্পরায় তারা এ কাজ করে ঐতিহ্য ধরে রাখছেন। দপদপিয়া ইউনিয়নের ২০ টি গ্রাম মুড়িপল্লী নামে পরিচিত।এখানের কারিগররা মোটা চাল থেকে দেশীয় এনালগ পদ্ধতিতে মাটির চুলায় মুড়ি ভাজার কাজ করেন।স্থানীয় চাহিদা পুরন করে এখানের মুড়ি যাচ্ছে বিদেশেও। বছর জুড়েই চলে এখানে মু্রিভাজা ও বিক্রির কাজ। তবে রমজান মাসে বাড়তি মুড়ির চাহিদা মেটাতে ব্যাস্ততা বাড়ে মুড়ি তৈরি কারিগরদের কাজ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে – বরিশাল পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের রাজাখলি, দপদপিয়া, তিমির কাঠি, ভরতকাঠি, গোয়াল কাঠি, চরাদি, বাখরকাঠি, রাবনাহাট, জুরকাঠি, এবং কুমাখালি গ্রাম।


অন্য সব পরিচয় হারিয়ে এ গ্রামগুলো বর্তমানে মুড়িপল্লী নামে পরিচিত। পরিবারের সকলেই মুড়ি ভাজা নিয়ে ব্যাস্ত। মাটির হাঁড়ি পাতিলের টুংটাং শব্দে মুখরিত চারদিক। কেউ চালে লবণ মিশ্রিত পানি মিশিয়ে ভাঁজছে, কেউ সেই ভাজা চাল গরম বালুতে শৈল্পিক হাতে মুড়ি বানাচ্ছে আবার সেই মুড়ি বস্তায় ভরছেন। উনুনের জ্বালের কাছে থাকতে হয় বলে দুইজন অথবা চারজন শ্রমিক পালাক্রমে বিশ্রাম নিয়ে অবিরাম মুড়ি ভেজে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা বিশ্রাম নিলেও মু্ড়ি ভাজার চুলোর নেই কোনো বিশ্রাম। মুড়ি ভাজার কর্মযজ্ঞের উৎসবে জ্বলে ওঠে ৩ শ ঘরের ১ হাজার ২০০ টি মাটির চুলার আগুন। তৈরি হয় সুস্বাদু মোটা চালের মুড়ি। প্রতিদিন গড়ে তৈরি হয় ২ শ মণ মুড়ি। যাহা পাইকার দের হাত বদলে দেশের বিভিন্ন বাজারে চলেযায়। শ্রমিক দিপালী রসনী জানান – প্রতিদিন তিনি ৫০/৫৫ কেজি চালের মুড়ি ভাজতে পারেন। তা থেকে ৪২/৪৫ কেজি মুড়ি পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতি বস্তায় তার আয় হয় ৪০০টাকা। প্রতি কেজি ৭৫ টাকা পাইকারি বিক্রি হয় খুচরা বিক্রেতারা ১২০ টাকায় বিক্রি করেন।

জানাগেছে ১৯৪৮ সালে জুরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আমজেদ মিয়া নিজহাতে মুড়ি ভেজে বিক্রি করতেন। আশির দশকে আব্দুল হক নামের এক জন শিক্ষক বিভিন্ন এলাকায় পাইকার দের মুড়ি ক্রয় করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সেই থেকে শুরু সামনে এগিয়ে আলা। বানিজ্যিক ভাবে মুড়ি ভাজার সাথে তিন যুগ ধরে জড়িত এখানের ৪০ টি ঘরের সবাই। ঝালকাঠি বিসিক উপপরিচালক মোঃ আল-আমীন জানান – এই এলাকা মুড়ি তৈরির জন্য বিখ্যাত। তাই এ শিল্পের সাথে জড়িতরা সমিতি গঠন করে ঋন নিতে চাইলে তাও দেয়া হবে। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হাবিব জানান মুড়িপল্লী গুলো বানিজ্যিকীকরন করে আরো অধিক উৎপাদন এবং এ পেশায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন বলে আমরা মনে করি। সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিষয়ে নজরে এনে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: 𝐘𝐄𝐋𝐋𝐎𝐖 𝐇𝐎𝐒𝐓