
মঠবাড়িয়া(পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্র শাকিল হাওলাদার (৪২) নামের এক ব্যবসায়ীকতৃক বলাৎকারের স্বীকার হয়েছেন। ঘটনাটি গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ১০ হাজার টাকায় মিমাংসা করে দিয়েছেন।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্থানীয় শালিস বৈঠক প্রভাবশালীরা এ জরিমানার টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেন। বলাৎকারের স্বীকার মাদ্রাসা ছাত্র স্হানীয় জরিপের চর আব্দুল গনি দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র। অভিযুক্ত শাকিল হাওলাদার একই ইউনিয়নের রাজপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল রব হাওলাদারের পুত্র। জানাযায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ছাত্র শাকিল হাওলাদারের দোকানে খাবার কিনতে গেলে সে শিশুটিকে ডেকে দোকানের ভিতরে নেয়। পরে দোকানের অন্য লোকজন চলে গেল সে দোকানের একটি শাটার বাহির থেকে এবং আরেকটি শার্টার ভিতর থেকে তালা লাগায় দেয়। পরে শাকিল শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করলে শিশুটি ডাক চিৎকার শুরু করে। এসময় শিশুটির মুখ হাত পা গামছা দিয়ে বেঁধে বলাৎকার করে। এক পর্যায়ে শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে শাকিল তাকে ছেড়ে দেয়। শিশুটি বাড়িতে এসে বিষয়টি তার মাকে খুলে বললে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে শিশুটির চিকিৎসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় পরদিন সকালে তাকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নারী ও শিশু নির্যাতনের ধারায় পরীক্ষা নীরিক্ষা জন্য শিশুটিকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। বিষয়টি স্থানীয় মাতুব্বর বেলাল, আতিকুর মেম্বার, শাহাদাত হোসেন এবং শহিদুল ইসলাম নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবারকে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। শিশুটির পরিবার তাদের কথা মতন প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে স্হানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ৩ মার্চ সকালে মিমাংসার জন্য তার বাড়িতে শালিস বৈঠক ডাকেন। ওই বৈঠকে শিশুটির চিকিৎসার খরচ বাবদ শাকিলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। শিশুটির মা বলেন, স্হানীয় মাতববররা বিষয়টি মিমাংসা করেছেন। তাকে ওই সমাজেই বসবাস করতে হবে। তাই তাদের মতের বাহিরে কোন কিছু করতে চাই না। এবিষয়ে তারা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা আমি মেনে নিয়েছি। এবিষয়ে শালিসদার সাবেক ইউপি সদস্য আতিকুরকে একাধিক বার তার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। এমন ঘটনায় গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে কারো জরিমানা আদায় করা তো দূরের কথা গ্রাম্য শালিস কেউ ডাকতে পারেন না। ছেলের পরিবার নির্ভয়ে এখনোও পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারেন।