নেছারাবাদ(পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদে কৃষকদের জন্য সরকারি সার ও কীটনাশক অনুদানের তালিকা প্রস্তুতকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কাওসার হাওলাদারের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব লাভলু হাওলাদার। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের দিকে উপজেলার ৬নং দৈহারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাটা দৈহারী এলাকায় ঘটে।ঘটনার পর তার স্ত্রী সুমি বেগম (৩১) বাদী হয়ে গতকাল রাতে জামায়াত নেতা কাওসার হাওলাদার সহ ৪ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জনকে আসামি করে নেছারাবাদ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ( ৭ মার্চ) দুপুরের দিকে ৬নং দৈহারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাটা দৈহারী এলাকায় আব্দুল খালেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে বেল্লাল মৃধার চায়ের দোকানে বসে লাভলু হাওলাদার কৃষকদের জন্য সরকারি সার ও কীটনাশক অনুদানের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। এ সময় জামায়াত নেতা কাওসার হাওলাদারের নাম তালিকার শেষের দিকে থাকায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে লাবলু হাওলাদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এতে লাভলু হাওলাদার প্রতিবাদ করলে কাওসার হাওলাদারসহ অন্যান্যরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার একপর্যায়ে কাওসার হাওলাদার হাতে থাকা কীটনাশকের কাচের বোতল ভেঙে লাভলু হাওলাদারের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথার মাঝ বরাবর গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।এসময় লাভলু হাওলাদারের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাদের খুন-জখমের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত লাভলু হাওলাদারকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাওসার হাওলাদার বলেন, “সার ও কীটনাশক বিতরণের তালিকা তৈরির সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা পাঁচজন মিলে আমাকে মারধর করে। আমি বর্তমানে পিরোজপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে লাভলুকে ধাক্কা দিলে তিনি দোকানের ঝাপের ওপর পড়ে গিয়ে মাথা কেটে যেতে পারে।নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লাভলু হাওলাদার আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। তার মাথায় জখম রয়েছে। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।