নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুন্সীগঞ্জ গজারিয়া উপজেলা জনস্বার্থে নিজেদের রেকর্ডীয় জমি রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়ে এখন উল্টো উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার উত্তর ফুলদী গ্রামের চারটি পরিবার। রাস্তার জন্য অতিরিক্ত জায়গা চলে যাওয়ায় অবশিষ্ট জমিতে নির্মিত দোকানের সামান্য অংশ খালের সীমানায় পড়েছে এমন অভিযোগে সেগুলো ভেঙে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে গজারিয়া ইউনিয়নের পানিশালের চর মৌজার উত্তর ফুলদী গ্রামে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে খালের পাড় দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয়দের চাপের মুখে আরএস ২৪০,২৪১, ২৪৮, ২৫০ ও ২৫১নং দাগের মালিকরা জনস্বার্থে ৮ ফুট করে জায়গা ছেড়ে দেন।এই জমি সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করা হয়নি এবং মালিকরা কোনো ক্ষতিপূরণও পাননি। পরবর্তীতে সেই পায়ে চলা পথটি পাকা রাস্তায় রূপান্তরিত হয় অধিকাংশ জায়গায় যার বর্তমান প্রস্থ প্রায় ১৪ ফুট।সরেজমিনে শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উত্তর ফুলদী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পশ্চিম পাশের ঢালে বেশ কয়েকটি পাকা দোকানঘর রয়েছে। সেখানে নতুন একটি দোকান নির্মাণের জন্য আরসিসি পিলার নির্মাণের কাজ চলছে। প্রশাসনের দাবি দোকানের প্রায় সাড়ে তিন ফুট জায়গা খালের সীমানায় পড়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রাস্তার জন্য নির্ধারিত ৮ ফুটের চেয়ে অতিরিক্ত ৬ ফুট জায়গা নিয়ে নেওয়ায় তাদের দোকানগুলো বাধ্য হয়ে খালের দিকে সরে গেছে।দোকান মালিক দুলাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার জায়গার ওপর ১৪ ফুট চওড়া রাস্তা হয়েছে, যার জন্য আমি কোনো টাকা পাইনি। এখন বলা হচ্ছে দোকানের সামান্য অংশ নাকি খালের ওপর পড়েছে। আমরা তো বালু দিয়ে খাল ভরাট করিনি শুধু পিলারের ওপর দোকান করেছি। এই দোকান ভেঙে দিলে আমরা পথে বসে যাব। হয় রাস্তার জায়গা কমিয়ে আমাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক নয়তো বর্তমানে যেভাবে আছে সেভাবে ব্যবসা করতে দেওয়া হোক।"আরেক ভুক্তভোগী মোস্তফা জানান, দীর্ঘ বছর ধরে তারা এখানে ব্যবসা করলেও আগে কখনো সমস্যা হয়নি। রাস্তার জন্য অতিরিক্ত জায়গা দখল করে নেওয়ায় তারা এখন ভূমিহীন হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। রাস্তায় জমিদাতাদের প্রতি প্রশাসনকে মানবিক আচরণ করার অনুরোধ করেন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, খালের প্রস্থ সব জায়গায় সমান নয় কোথাও ১৪ ফুট কোথাও ২৫ ফুট। দোকানের নিচের কয়েকটি আরসিসি পিলারের কারণে পানি প্রবাহে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তার দাবি স্থানীয় একটি পক্ষ ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে।এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "খালের জায়গায় দোকানের যতটুকু অংশ পড়েছে তা ভেঙে ফেলার জন্য আমরা ইতিমধ্যে দোকান মালিকদের নোটিশ প্রদান করেছি। সরকারি জায়গা উদ্ধারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"