ওমর ফারুক ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
খাল খনন প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী প্রায় দেড় কোটি টাকার কাজ বছর খানেক আগে শেষ হলেও ঝালকাঠি পৌর শহরের সাতটি খালের চিত্র বদলায়নি একটুও। খাল খননের নামে সরকারি অর্থের শ্রাদ্ধ হলেও খালগুলো রয়ে গেছে আগের মতোই ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমীর বিল্ডার্স কে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়েছে পৌরসভা। তিন কর্মদিবসে জবাব না দিলে জামানত বাজেয়াপ্ত এবং লাইসেন্স ডিবার করার সুপারিশ করা হবে।স্থানীয়দের অভিযোগ - ঠিকাদার ও পৌরকর্তৃপক্ষের যোগসাজশে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা লোপাট হয়েছে। দীর্ঘদিন খননের কাজ না হওয়ায় ঝালকাঠি পৌরশহরের সাতটি খাল ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। বদ্ধ নোংরা পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হওয়া অন্তত ২০ হাজার মানুষ। এই জনভোগান্তি লাঘবে নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট খাল খনন প্রকল্প হাতে নেয়। পৌরসভা। ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩৭৭ টাকা ব্যায়ে এই কাজের কার্যাদেশ পেয়েছিলো ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমীর বিল্ডার্স। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দৃশ্যপট ভিন্ন।সরেজমিনে দেখা গেছে খালের দখলদারত্ব, দুষণ আগের অবস্থাতেই রয়েছে। স্থানীয়রা জানান - বড় বাজেট দেখা গেলেও নামে মাত্র কিছু কাজ করা হয়েছে। বর্ষামৌসুমে এই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নেবে। এ যেনো খালখননে পুকুরচুরি।তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা।

ঠিকাদার এবিএম সরোয়ার হোসেন এর দাবি - গত ৫০ বছরেও এ-সব খাল খনন না হওয়ায় অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে।পৌরসভা আমাদের পাওনা বিলের অর্ধেক এখনো পরিশোধ করেনি। অপরদিকে ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) টিএম রেজাউলহক রিজভী জানান -২০২৪ -২০২৫ অর্থ বছরের সাতটি খাল খননের কার্যাদেশ দেওয়া ঠিকাদার কে এসকল অনিয়মের কারণে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয়া হয়েছে। সাতটি খালের ছয়টি তে আংশিক কাজ শুরু করলেও কোনোটি সম্পুর্ন খনন শেষ করেনি। ঠিকাদারের উদাসীনতার কারনে জনমনে অসন্তোষ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।পূর্নাঙ্গ খাল খনন না হলে বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর উপদ্রব বৃদ্ধি পেতে পারে। নোটিশে আরো উল্লেখ আছে ইতোমধ্যেই চুক্তি মূল্য ১.৩৩ কোটি টাকার মধ্যে সম্পাদিত কাজের চলতি বিল হিসেবে ৫২,৭১,০১১ টাকা প্রদান করা হয়েছে। তবে খালগুলো সম্পুর্ন খনন না হওয়ায় পৌরবাসী কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ব্যাখ্যা না দিলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর - ২০২৫) অনুযায়ী ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত এবং ঠিকাদারি লাইসেন্স ডিবার করার সুপারিশ করা হবে।