মঠবাড়িয়া(পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে শামীম হাসান খান নামে এক ব্যবসায়ীকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পৌর শহরের হাসপাতাল রোড সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আমিরুল অয়েল সাপ্লাইয়ার্স-এর স্বত্বাধিকারী শামীম হাসান খান তার দোকানে তেলের সংকট দেখালেও নিজ বাসভবনের কয়েকটি রুমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ওই বাসভবনে অভিযান চালায়। এ সময় শামীম হাসানের গোডাউন থেকে ১৬৮৩ লিটার ডিজেল, ১২০ লিটার পেট্রোল, ২৬৩ লিটার কেরোসিন, ১০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার ২'শ ৬৪ টাকা।অভিযান চলাকালীন ইব্রাহিম খলিল নামের এক গাড়িচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা তেলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছি, কিন্তু দোকানদার তেল নেই বলে আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। অথচ সে ঘরের ভেতর এত তেল লুকিয়ে রেখেছেন এবং গোপনে বেশি দামে বিক্রি করে।উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযুক্ত শামীমের ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া জেলা প্রশাসকের দেওয়া পরিবেশ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই তেল মজুত করার অপরাধ স্বীকার করায় শামীম হাসানকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ২১১০ লিটার জ্বালানি তেল সরকারি মূল্যের বিনিময়ে মঠবাড়িয়া উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনের প্রোপাইটারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ ব্যাংকিং সময়ে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা শামীম হাসানের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেলের মজুদ উদ্ধার করি। অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই দাহ্য পদার্থ মজুত করে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করেছিলেন। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা জ্বালানি মজুত করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।