ওমর ফারুক ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
পবিত্র ঈদ উল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতি। আর সেই প্রস্তুতির অন্যতম অনুষঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে পশু জবাই করা ও গোশত প্রস্তুতের সরঞ্জাম তৈরির কাজ। সেই কাজের যোগান দিতেই ঝালকাঠির কামারপাড়ায় শুরু হয় আগুন আর লোহার যুদ্ধ। ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘরের কারখানায় সকাল থেকেই জ্বলছে কয়লার আগুন, তার লালচে আঁচে গরম হচ্ছে লোহা। মুহুর্তেই সেই লালচে গরম লোহার ওপর পড়ছে ভারী হাতুড়ির আঘাত। টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ তৈরি করছেন দা কেউ বটি, কেউ চাপাতি আবার কেউ পুরনো দা- বডিতে দিচ্ছেন শান। সবমিলিয়ে ঈদ কে সামনে রেখে এখন এভাবেই ব্যাস্ত সময় পার করছেন ঝালকাঠির কামার পাড়ার কারিগররা।বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদ মৌসুমেই তাদের সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ। সকাল থেকে কাজ চলে গভীর রাত পর্যন্ত। গ্রীষ্মের এই প্রচন্ড গরমে আগুনের উত্তাপ, ধোয়া আর শরীরের ঘাম ঝরানোর মধ্যে দিন কাটলেও মুখে ক্লান্তির চেয়ে বেশি দেখা যায় আশার ছাপ। কারণ কোরবানি ঈদকে ঘিরেই আসে তাদের বছরের সবচেয়ে বড় আয়। এখনো পুরোপুরি বিক্রি জমে না উঠলেও শেষ বাজারের চাঙা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা।কামার শিল্প কারিগর গৌতম, উত্তম, বাদল, রিপন জানান- লোহা, কয়লার দাম বাড়ছে কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের তৈরী জিনিস পত্রের দাম বাড়াইতে পারি না। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও প্রতিযোগীতার বাজারে ক্রেতার সামর্থের কারনে তারা দাম খুব একটা বাড়াতে পারছেন না। তবুও থেমে নেই তাদের জীবন যুদ্ধ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পেশাকে আঁকড়ে রেখেছেন অনেকেই।মজুরি হিসেবে ছুরি, চাপাতি, দা, বটিতে শান দেয়ার জন্য আকার ভেদে ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন কারিগররা। আবার রকম ভেদে লোহার বিভিন্ন সরঞ্জাম ৫০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর জবাই, চামড়া ও গোশত ছাড়ানো ছাড়াও দৈনন্দিন পারিবারিক কাজের জন্য।