
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় তাসনিয়াতুল মাহী নামে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে গরম খুনতি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সৎ মা আসমা বেগমের বিরুদ্ধে। মাহী উপজেলার ১৮৬ নং উত্তর চালিতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ও দক্ষিণ মিরুখালী গ্রামের মাসুম গাজীর কন্যা।
মাহীর ফুফুর আসমা বেগম জানান, মাহীর বয়স যখন দেড় বছর তখন ওর মায়ের সাথে বাবা মাসুম গাজীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে মাহীকে তিনি তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে লালন পালন করেন। পরে মাহীর বাবা ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ২য় বিবাহ করলে মাহীকে বাবার বাড়িতে দিয়ে যান। মাহীর সৎ মা ছয় মাস মাহীকে কিছু না বললেও পরবর্তীতে ওর উপর নির্যাতন শুরু করেন। এদিকে স্কুল ছাত্রী মাহীর বাবা চট্টগ্রামে জাহাজে চাকুরী করায় দিন দিন এ নির্যাতনের মাত্রা বাড়তেই থাকে বলে জানান ফুফু আসমা বেগম। বৃদ্ধ দাদী আয়শা বেগম বলেন, অসহায় নাতনি তাসনিয়াতুল মাহীকে পুত্রবধু আসমা ইচ্ছেমত মারধর করে। এমনকি গ্যাসের চুলায় খুনতি গরম করে ওর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চেপে ধরে। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকে একদিন জুতা দিয়ে আঘাত করে। তাছাড়া প্রায়ই ঝাড়ু নিয়ে আমাকেও মারতে তেড়ে আসে।
দাদা আঃ রব গাজী জানান, ছোট নাতনির ওপর এতো নির্যাতন করে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায়। আমরা কিছু বললে পুত্রবধু নিজে নিজে আত্মহত্যা করতে যায়।আমাদের মামলায় দিবে জেলা খাটাবে বলে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয়।স্কুল ছাত্রী তাসনিয়াতুল মাহী বলেন, আমি মাঝে মধ্যে রাতে ঘুমের ঘরে প্রসাব করি। এজন্য আমাকে খাটের নিচে ফেলে রাখতো। খুনতি গরম করে পিঠে ও রানে চেপে ধরে। ভাত খেতে গেলে গলা চেপে ধরে। অসহায় শিশু তাসনিয়া সৎ মায়ের এ অত্যাচারের বিচার চান।এব্যাপারে অভিযুক্ত আসমা বেগম শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।