
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৭৬ নং রাখাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রেখে স্কুল ফিডিং এর খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাড়ি থেকে স্কুলে বহন করে আনানোর অভিযোগ উঠেছে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বীপিকা মিস্ত্রির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলের ক্লাস চলাকালীন সময়ে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে স্কুলের চার ছাত্র মাথায় করে চারটি কার্টুন নিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে হেটে স্কুলের দিকে যাচ্ছে। এসময় তাদের সঙ্গে অন্য কাউকে দেখা যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানাযায় ওই শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বের পথ কাউখালী উপজেলা গন্ধর্ব এলাকার চৌরাস্তা নামক স্হান থেকে তারা স্কুল ফিডিং এর খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাড়ি দিয়ে কার্টুন চারটি বহন করে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে তার প্রতিদিনই স্কুল ফিডিং এর খাবার আনা-নেয়া করে থাকে বলে স্হানীয়রা জানান।স্কুল ফিডিং এর খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও স্কুলের অভিভাবক কিরনি বলেন, স্কুলে আসার রাস্তা খুব খারাপ থাকায় কোন গাড়ি স্কুল পর্যন্ত আসতে পারে না। তাই আমি স্কুলের টিফিনের খাবার প্রতিদিন চৌরাস্তা থেকে স্কুলে নিয়ে আসি। মাঝে মধ্যে স্কুলের ছাত্ররা স্কুল থেকে ওই এলাকার দোকানে খাবার কিনতে যায়। তখন তারা আমাকে সাহায্য করতে খাবারের কার্টুন মাথায় করে স্কুলে নিয়ে আসে।এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বীপিকা মিস্ত্রি বলেন, রাস্তা খারাপ থাকায় স্কুল পর্যন্ত কোন গাড়ি আসেনা। তাই স্কুল ফিডিং এর খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন আমার স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মাধ্যমে স্কুল ফিডিং এর খাবার স্কুলে পৌঁছে দেন। আমি স্কুলের কোন শিক্ষার্থীকে দিয়ে স্কুল ফিডিং এর খাবার বহন করাইনি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মইনুল ইসলাম বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। স্কুল ফিডিং এর খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিটি স্কুলে তাদের নিজ দায়িত্বে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নিবেন। যদি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাবার বহন করে থাকেন তা হলে তিনি চরম অন্যায় করেছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।