1. multicare.net@gmail.com : আমাদের পিরোজপুর ২৪ :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাপান সরকারের এমইএক্সটি বৃত্তি পেলেন কাউখালীর শিক্ষক দম্পতি কন্যা দেবলীনা সাহা ঐশী পিরোজপুরে মাদকবিরোধী র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত বিএনপি সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনদিয়ে সাংবাদিকদের নির্যাতন কিংবা নিয়ন্ত্রণ করবে না….ড. জিয়া হায়দার গলাচিপায় প্রতিমন্ত্রীর মনোনীত প্রতিনিধি আবু নাঈমকে সংবর্ধনা কাউখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি নিহত কাউখালীতে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা নেছারাবাদে পৃথক অভিযানে দুই নারীসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কাউখালীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত নাজিরপুরে শিশু ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা!

ঐতিহ্য হারিয়ে স্মৃতি হতে চলছে মাটির তৈরি তৈজসপত্র

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

ওমরফারুক ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

গ্রামাঞ্চলের সাংসারিক জীবনে মাটির জিনিসপত্রের ব্যাবহার ছাড়া ভাবাই যেতনা। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পালপাড়ায় কুমোরদের ব্যাস্ততা আর জৌলুশ নেই আগের মত। বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পহেলা বৈশাখে মাটির বাসনে পান্তা-ইলিশ খাওয়া, পূজা পার্বণে গঙ্গাস্নানের মাটির পাত্র ব্যাবহার, শষ্যের বীজ সংরক্ষণ ছাড়াও পারিবারিক ব্যাবহারে মাটির পাত্র ছিলো ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।এরমধ্যে ছিলো হাড়ি, ঢাকনা, কলস, বাসন, মালসা, পিঠা বানানোর ছাঁচ , মুড়িভাজার খোলা, মটকি, চারি, টালি সহ আরো অনেক তৈজসপত্র।ঝালকাঠি শহর এবং পশ্চিম ঝালকাঠিতে প্রায় ৪০/৪৫ টি ছিলো পালপরিবার।

এদের ঐতিহ্যের কারনেই এখানকার একটি সড়কের নাম রয়েছে পালবাড়ি সড়ক।পাল পাড়ার নারী-পুরুষের মধ্যে চলতো মাটির পাত্র তৈরির প্রতিযোগিতা। পুরুষরা মাটির তৈরি পাত্র নৌকায়, ভ্যানগাড়িতে কখনো বাঁশের তৈরি বড় ঝাকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করতো।আজ থেকে ২৫/৩০ বছর পূর্বে দেখা যেতো পাল পাড়ায় পালেরা কাদামাটি দিয়ে চাকা ঘুড়িয়ে বিভিন্ন বাসনপত্র তৈরি করতো। তৈরি করা বাসন খোলা যায়গায় রোদে শুকিয়ে তরলরং এ চুবিয়ে বিশেষ চুলায় পোড়াতো। মাটির পাত্র পোড়ানোর জন্য প্রতিটি পরিবারে একটি করে ঘর থাকতো, সেখানে পাত্র গুলো সুন্দর করে সাজিয়ে বিভিন্ন জালানি দিয়ে আগুনে পোড়ানো হতো। ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় পুরো পালপাড়া ছেয়ে যেত। সেই পালপাড়া প্রায় এখন মানুষ শূন্য। হাতে গোনা কয়েকটি পাল পরিবার রয়েছে। বাকীরা সবাই অন্যত্র চলেগেছে। কেউ আবার অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছে। বাড়িঘর গুলো শ্মশানের মতো দেখাচ্ছে। কাঁচা ঘরের মাটি খসে পড়েছে।সকল যন্ত্রপাতি অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে এখানে সেখানে। দু’একটা বাড়িতে মহিলা-পুরুষ কিছু বানাচ্ছে।এরকম অবস্থা কেনো জানতে চাইলে দিলীপ পাল (৬৪) এ প্রতিনিধি কে জানান – মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা কমে যাচ্ছে। প্লাস্টিক, এলুমিনিয়াম, সিলভার সামগ্রীর প্রভাবে মাটির জিনিস কদর হারিয়েছে। পাশাপাশি আমাদের তৈরি জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে। আমরা যেগুলো ৫/৭ টাকায় বিক্রি করতাম সেগুলো এখন ৪০/৫০ টাকায় কিংবা এ-র বেশীও বিক্রি করতে হয়। এছাড়াও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর এই পেশায় থাকতে চাচ্ছেনা তারা পড়ালেখা করে চাকুরী ব্যাবসার দিকে ঝুঁকছে।পুরো পালপাড়া ঘুরে দেখা গেলো পাঁচটি বাড়ির মধ্যে মাত্র দু’জন টুকটাক মাটির কাজ করছেন। ছোট বড়ো প্রতিমা, পুতুল বানিয়ে রোদে শুকাচ্ছে। মাটির জিনিস পত্র তৈরির চাকা যেটা ঘুরিয়ে বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরি হতো, সেই জিনিস টা অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। কোনোটা আবার বেড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ একটা সময় দিন-রাত এই চাকা বিরামহীন ভাবে ঘুরে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতো।গ্রামের অন্য পেশার মানুষের সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা হলে তারা বলেন – পালদের এভাবে চলে যাওয়ায় আমাদের মাটির জিনিসের বিরাট অভাব দেখা দিয়েছে। আগে হাতের কাছে ছিলো প্রয়োজনে বিভিন্ন জিনিস কিনে নিয়ে এসেছি। এখন মাটির পরিবর্তে লোহা এলুমিনিয়াম ব্যাবহার করতে হয়। সবমিলিয়ে নানান সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে।সর্বপরি সৈ সবের সেই পহেলা বৈশাখ মানেই ছিলো মেলায় গিয়ে মাটির জিনিস পত্র কিংবা খেলনা কেনা। যান্ত্রিক শহরে আধুনিকতার ভীরে সেই মাটির সোঁদা গন্ধ আমরা অনেকটা হারিয়ে ফেলছি। এই মাটির তৈজসপত্রে মিশে আছে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর ফেলে আসা স্মৃতির একটুকরো অনুভূতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: 𝐘𝐄𝐋𝐋𝐎𝐖 𝐇𝐎𝐒𝐓