
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি কাউখালী গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৬ সালে জাতীয় করন করা হয়। এক সময় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার শিক্ষার গর্ব হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি আস্থার জায়গা হারাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে দ্রুত শিক্ষক পদায়নের দাবিতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র, অভিভাবক ও সচেতন মহল মানববন্ধন করেন।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ১৭ জন অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৪ জন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ইংরেজি, বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক শূন্যতা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টিতে বিগত দিনে কর্মরত শিক্ষক অবসরে ও অন্যত্র বদলির পর শূন্য পদে নতুন পদান হয়নি। ফলে নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪০০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য জীববিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ভূগোল ও চারু ও কারুকলা বিষয়ের মাত্র ৪ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। এরমধ্যে একজন শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তিনি স্কুলের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস নিতে পারছেন না। ফলে অধিকাংশ সময় তিনজন শিক্ষক দিয়েই পাঠদান করাতে হচ্ছে। সে হিসেবে গড়ে ১৩৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী গড়ে ৩০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টি কীভাবে চলছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে চলবে, সেই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছেও স্পষ্ট নয়।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। আর কয়েক দিন পর শুরু হবে দ্বিতীয় সাময়িকী পরিক্ষা। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে এখনও শেষ হয়নি আমাদের সিলেবাস। তাই পরিক্ষা নিয়ে আমরা চিন্তিত।মানববন্ধনে শিক্ষার্থী অভিভাবক আল আমিন, সুমা আক্তার বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে মানসম্মত শিক্ষার আশা থাকলেও শিক্ষক সংকটের কারণে তা পূরণ হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সব শূন্য পদ পূরণ করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার বলেন, সরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান, বাংলা, গনিত, হিসাব বিজ্ঞান ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক নেই।শিক্ষক সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের শিক্ষক স্বল্পতার মধ্যেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অতি কষ্টে কোনোমতে ক্লাস পরিচালনা করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক পাওয়া যায়নি। এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। সংকট সামাল দিতে অল্প সম্মানীতে দুইজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে পাঠদান চালানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারীর পদও শুন্য রয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পিরোজপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকেও জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।