1. multicare.net@gmail.com : আমাদের পিরোজপুর ২৪ :
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পবিপ্রবিতে ভিসিবিরোধী অপতৎপরতা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের প্রতিরোধের মুখে পন্ড নাজিরপুরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন গলাচিপায় ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ইস্যুতে দেয়াল লিখনে উত্তেজনা, মুখোমুখি ছাত্রসংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হলেন সাংসদ কামরুজ্জামান রতন নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধ করা ছাত্রীকে জেলা প্রশাসনের ‘কন্যা সাহসিকা’ স্মারক প্রদান ঝালকাঠি পৌরসভায় ৫ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট যতদিন বেঁচে থাকবো দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকবো — জিবা আমিনা আল গাজী ফুলপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির  মাসিক সভা অনুষ্ঠিত   নাজিরপুরে শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা, সংঘর্ষে নিহত-১ মঠবাড়িয়ায় ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার: ২ বছরের কারাদণ্ড

পবিপ্রবিতে ভিসিবিরোধী অপতৎপরতা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের প্রতিরোধের মুখে পন্ড

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

পবিপ্রবি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্যবিরোধী একটি পক্ষের ডাকা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সোমবার (১১ মে) প্রশাসনিক ভবনের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিরোধের মুখে তা ভেস্তে যায়।আন্দোলনকারীরা সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখেব তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ সময় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া এবং একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষক ও তাদের অনুসারীরা সেখান থেকে সরে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্যাসিস্ট ও ক্রিয়াশিল রাজনীতির সাথে যুক্ত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিএনপি পন্থী উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, মব সৃষ্টি ও প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধ আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সুবিধাভোগী একটি চক্র বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পথ বেছে নিয়েছে। উপাচার্যের সরকারি সফরে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল করার চেষ্টা চালায়।এ চক্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আবুল বাশার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন,অধ্যাপক ড. মো: আবদুল মালেক, ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, কর্মকর্তাদের মধ্যে আরিফুর রহমান নোমান, ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, রাহাত মাহমুদ,মাহমুদ আল জামান,তানজিল আহমেদ, জাহিদ আল মামুন। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণমুখী প্রশাসনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে সময় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।তিনি আরও বলেন, “যারা অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ লুটপাট, টেন্ডার থেকে অবৈধ কমিশন গ্রহণ, খামারের মৌসুমি শ্রমিকের নামে ভুয়া বিল উত্তোলন, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের দুর্নীতি, মব সৃষ্টির অপচেষ্টা কিংবা শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবে না।শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গরু, কৃষিখামারের উৎপাদিত ধান-ডাল-চাল, লেকের মাছ, হাজার হাজার ডাব, কোটি কোটি টাকার টেন্ডার এবং ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে কোনো ধরনের মব সৃষ্টি, ষড়যন্ত্র কিংবা ফ্যাসিবাদী অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।”উপাচার্য আরও অভিযোগ করেন, অতীতে জামায়াতপন্থি প্রশাসনের আমলে নিয়োগ পাওয়া সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা বর্তমানে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানচর্চার স্থান। এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করা এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চক্রের এ ধরনের কর্মসূচি ও সংঘাতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে সেশনজট, পরীক্ষা পেছানো এবং শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তারা দ্রুত ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চালু রাখার দাবি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: 𝐘𝐄𝐋𝐋𝐎𝐖 𝐇𝐎𝐒𝐓