
নিজস্ব প্রতিনিধি;
অস্তিত্বের এই সন্ধিক্ষণে চাই ঐক্যের রাজনীতি মন্তব্য করে নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গনতন্ত্র একটি প্রক্রিয়া যা সঠিক ভাবে পরিচালিত হলে একটি দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশে সমস্যা গুলো হয়তো রাজনৈতিক চর্চার দুর্বলতা ও দুর্নীতির কারণে বেশি প্রকট। গনতন্ত্রের মূল চেতনা সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করা। তাই ব্যবস্থার ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো শোধরানোই একমাত্র টেকসই সমাধান হতে পারে।তরুণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সংগ্রাম, ত্যাগ ও জন সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজনীতি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীর ভাবে যুক্ত ছিল। তবে স্বাধীনতার পর বাস্তব রাজনীতিতে আদর্শের জায়গায় অনেক সময় দলীয় স্বার্থ ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতা প্রাধান্য পেয়েছে।জনতা সংস্কৃতিক ফ্রন্টের সাধারন সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি আরো বলেন, দলগুলো তার নীতি আদর্শ থেকে চুত্য হয়ে পড়লে ঘটবে বিপত্তি। আর তখনই আসে বিপ্লবের পর্ব। ইতিহাসের পাতা কিন্তু তাই বলে। যুগে যুগে বিপ্লবের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নীতি আদর্শ। কোন সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র যখনই তার নীতি আদর্শ থেকে চুত্য হয়েছে তখনই একজন ত্রাতার আবির্ভাব ঘটেছে।তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি একদিকে প্রয়োজনীয়তা আবার অন্যদিকে সংশয় তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন রাজনীতিকে জনকল্যাণ ভিত্তিক প্লাটফর্ম হিসেবে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে নীতি, কর্মসূচি ও জবাবদিহিতা হবে আস্থার ভিত্তি।নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি আরো বলেন, এখন অনেক দুর্বৃত্তরা রাজনীতির পতাকা তলে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের অংশ গ্রহণে রাজনীতি কলুষিত হয়ে পড়েছে। রাজনীতির প্রতি মানুষের ঘৃণা সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনীতিবিদদের প্রতি সৃষ্টি হচ্ছে চরম অনাস্থা, যা জনগণের অধিকার রক্ষা বা রাষ্ট্রের তথা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনীতি একটি স্থিতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক গনতন্ত্রের পথ খুঁজছে তবে এই যাত্রায় রাজনৈতিক সমঝোতা ও সদিচ্ছার অভাব একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।সাবেক ছাত্রনেতা ও নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি বলেন, আমাদের দেশ স্বাধীনতা পেয়েছিল রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির মাধ্যমে। তাই যে দেশটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্বাধীনতা পেয়েছে, সে দেশের রাজনীতি কোন অবস্থাতেই দুর্বৃত্তদের আশ্রয়স্থল হতে পারে না। রাজনীতি যদি জনগণের স্বার্থে না আসে তবে সে সব দল ও এক সময় কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে।