
ওমর ফারুক নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঈদের আনন্দ বিরূপ আবহাওয়ায় কিছুটা থমকে থাকায় এর রেশ লেগেছে এখন ৮ম চীন মৈত্রী বেকুটিয়া সেতু সংলগ্ন ডলফিন চত্ত্বর এবং সন্ধ্যা নদীর তীরে।বরিশাল – খুলনা মহাসড়কে কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর ওপর নির্মিত বেকুটিয়া সেতু সংলগ্ন পর্যটন কেন্দ্র ডলফিন চত্ত্বরে আর সন্ধ্যা নদীর তীর জুড়ে এখন যেনো উৎসবের ঢেউ থামছেই না।দক্ষিণাঞ্চলের রাজাপুর, ভান্ডারিয়া , নাজিরপুর, জিয়া নগর সহ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন ছুটে আসে এখানে। পরিবারের সদস্য, আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধু দের নিয়ে বিনোদন প্রেমিরা ছুটে আসে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে একটু উপলব্ধি করে নির্মল সময় কাটাতে।

একটু ভিন্ন স্বাদে আনন্দ খুঁজে নিতে।ঈদের ছুটি শেষ হলেও অনেকেই এখনও বাসা – বাড়িতে অবস্থান করছেন।শহরের ব্যাস্ত জীবন থেকে দূরে এসে এই অবসর সময়টুকু তারা কাজে লাগাচ্ছেন ঘোরাঘুরি আর বিনোদনে। দখিন জনপদে বেশকিছু বিনোদন স্পট থাকলেও বেশিরভাগ মানুষের প্রথম পছন্দ বেকুটিয়া সেতু সংলগ্ন ডলফিন চত্ত্বর। সকালের চেয়ে বিকেলে এবং সন্ধ্যা পরবর্তী জমে ওঠে হাজারো নারী-পুরুষ,শিশু কিশোরদের আগমনে।কেউ প্রাইভেট কার,মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এবং ট্টলার যোগে আসছেন বিনোদন প্রেমিরা। এখানের ডলফিন, নাগরদোলা, চরকা, শিশুদের দোলনা, সূর্যাস্ত দেখা, নদীর তীরে আড্ডা দিয়ে গল্পে তালে তালে নদীর ঢেউ ভোগকরা, সেতুর উপর থেকে গাড়ি চলা আর নীচ থেকে নৌযান চলাচল অবলোকন করা সবমিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হয় এখানে। এই আনন্দ ঘন মূহুর্ত গুলো ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও আনন্দ ভাগকরে নিচ্ছেন তরুণ – তরুনীরা।

দর্শনার্থী সেতু এসেছেন রাজাপুর থেকে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, তিনি জানান – এখানে ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখে বেশী প্রানবন্ত হয়েওঠে। সকলবয়সের মানুষেরা খুব আনন্দ পাচ্ছে।ঐতিহাসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এই বেকুটিয়া সেতুর পূর্বপাড়। এটি ছিলো বেকুটিয়া ফেরীঘাট। বরিশাল – খুলনা মহাসড়কে চলাচলের জন্য এটিই ছিল মাধ্যম। ১৯১৮ সালে এ সেতুটি চীন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সন্ধ্যা নদীর ওপর নির্মিত ৮ শত ৯৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ৯ শত ৯৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন।সবমিলিয়ে যাতায়াতের সহজ মাধ্যম, নেই বখাটে কিংবা কিশোর গ্যাংদের উৎপাত। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক নিরাপত্তা বলয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর উৎসব মুখর পরিবেশ সবমিলিয়ে ঈদের পরবর্তী এই সময়েও বেকুটিয়া সেতু সংলগ্ন ডলফিন চত্ত্বর হয়ে উঠেছে আনন্দ খোঁজার অন্যতম গন্তব্য।