1. multicare.net@gmail.com : আমাদের পিরোজপুর ২৪ :
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অযত্নে বিলুপ্তির পথে কালের স্বাক্ষী শতবর্ষের ঝালকাঠির কীর্তিপাশার সতীদাহ বেদী কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান নেছারাবাদে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক পিরোজপুর সাইকেলপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ দোকান শ্রীগুরু সঙ্ঘ আশ্রমের বহিস্কৃত কোষাধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় সংবাদ সম্মেলন নেছারাবাদে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত চেক জালিয়াতি ও বিস্ফোরক মামলায় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেপ্তার কাউখালীতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ কাউখালীতে বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কাউখালীতে শ্রীগুরু সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

অযত্নে বিলুপ্তির পথে কালের স্বাক্ষী শতবর্ষের ঝালকাঠির কীর্তিপাশার সতীদাহ বেদী

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

ওমর ফারুক,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠির কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ির ভেতরে শতবর্ষ পেরিয়ে এখনো টিকে আছে সতীদাহ বেদী। যেখানে প্রায় দুইশো বছর আগে সর্বশেষ ঘটেছিলো সহমরণের মর্মান্তিক আৎকে ওঠার মতো ঘটনা। অবশ্য এর আগেও এখানে হয়েছে একাধিক সতীদাহ। বহু নারীকে এই বেদীতে আত্মাহুতি দিতে হয়েছে মৃত স্বামীর শেষ যাত্রায়। যে স্মৃতি ইতিহাস হয়ে এখনো স্মৃতি চারণ করে সেখানের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মানুষের মুখে মুখে। বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে সেই কালের নীরব সাক্ষী ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে এই ঐতিহাসিক স্মৃতি। সরেজমিনে কীর্তিপাশা জমিদার বাড়িতে গিয়ে দেখাযায় ঘনজঙ্গলের মধ্যে নীরব দাড়িয়ে আছে একটুকরো ইতিহাস কালের স্বাক্ষী “সতীদাহ বেদী “।চারপাশে ঘন গাছপালা আর ঝোপঝাড়ে ঘেরা অবস্থায় পড়ে আছে বেদীটি। কোনো প্রকার সংরক্ষণ বা পরিচর্যার চিহ্ন নেই সেখানে। অবহেলা আর অযত্নে ঢাকা পড়ে আছে সেই কালের ঘটে যাওয়া নীরব সাক্ষী।ইতিহাস ঘেটে এবং প্রবীণদের মুখে যানা গেছে – উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বিক্রমপুর পোরাগাছার রাজা কৃষ্ণরাম ঝালকাঠির কীর্তিপাশা আসেন। ব্রিটিশ সরকারের কাছথেকে তিনি জলাশয় ও বনভূমি তালুক নিয়ে জমিদারি স্থাপন করেন। তাঁর দুই ছেলে কৃষ্ণকুমার সেন গুপ্ত ও দেবী চরণ সেনগুপ্তের জন্য নির্মাণ করেন দুটি রাজকীয় বাড়ি। একটি পূর্ব বাড়ি অপরটি পশ্চিম বাড়ি নামে পরিচিতি ছিলো।পরে তা দশ আনা বড় হিস্যা ও ছয় আনা ছোট হিস্যা জমিদার বাড়ি নামে পরিচিতি পায়। কালের পরিক্রমায় ছোট হিস্যা বিলুপ্তি হয়ে যায়। তবে ভগ্নদশায় থাকা নাট মন্দির, হলঘর, ছোট মন্দির, শানবাঁধানো পুকুরঘাট নিয়ে এখনো টিকে আছে বড় হিস্যা জমিদার বাড়ি। সেখানে একটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর কার্যক্রম চালু আছে। যা কীর্তিপাশা কালীপ্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় নামে পরিচিত। ইতিহাস থেকে আরো জানাযায় – দেবী চরণ সেনগুপ্তের প্রপৌত্র ছিলেন কালীপ্রসন্ন কুমার। তার স্ত্রী ছিলেন হরসুন্দরী দেবী। কালীপ্রসন্ন কুমার কে তার গুরুদেব এবং ভুষন্ডির তৎকালীন জমিদার ষড়যন্ত্র করে এক কর্মচারীকে দিয়ে খাদ্যে বিষ প্রয়োগে হত্যাকরে। এই মৃত্যুর দায় ষড়যন্ত্র করে তার স্ত্রী হরসুন্দরী দেবীর ওপর চাপায় কুচক্রী মহল। এই অপবাদ সহ্য করতে না পারায় নিজের সতিত্ব প্রমানে ১৮২৮ সালে স্বামীর জলন্ত চিতায় সিঁদুর পড়ে সেজেগুজে ঝাপদিয়ে মৃত্যু বরণ করেন ষোলো বছরের সুন্দরী জমিদার পত্নী। তৎকালীন বরিশাল জেলা ম্যাজিস্ট্টেট মিস্টার গ্যারট ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে থামানোর চেস্টা করলেও যোগাযোগ ব্যাবস্থা খারাপ থাকায় দেরিতে পৌছানোর কারনে ব্যার্থ হন। বর্তমানে সেই সহ মরনের বেদীটি জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে জঙ্গলের মধ্যে টিকে থাকলেও এর সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনা। জমিদারের বর্তমান বংশধর তপনসেন গুপ্ত বলেন – বংশ পরস্পরায় শুনে এসেছি ইতিহাসের এই সত্য ঘটনা। নতুন প্রজন্ম খুবই কম জানে এই বিষয়ে। এর সংরক্ষণে সরকার বা সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।ইতিহাসবিদ অধ্যাপক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন – সহমরণের কুপ্রথা বিলুপ্ত হয়েছে। ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায় ও লর্ড উইলিয়াম বেন্টিকের উদ্যোগে এই প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের হাত ধরে বাংলার রেনেসাঁর যুগের প্রচলন ঘটে।ঝালকাঠির বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজনীতিবিদ মনিরুল ইসলাম নুপুর জানান – ঝালকাঠির এই শতবছরের ইতিহাস ঐতিহ্য কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানাগেছে এখানে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। অযত্ন আর অবহেলার স্তর ভেদ করে এখনও টিকে আছে ইতিহাসের এই নিঃশব্দের সাক্ষী। কালের গর্ভে যাবার আগেই কীর্তিপাশার এই সতীদাহ বেদীকে সংরক্ষণে প্রয়োজন জরুরি উদ্যোগ এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: 𝐘𝐄𝐋𝐋𝐎𝐖 𝐇𝐎𝐒𝐓