
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ৫০০ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আলমগীর হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষণার পর প্রধান অতিথি আহমদ সোহেল মনজুর নিজ হাতে কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন। এ সময় প্রধান অতিথি আহমদ সোহেল মনজুর বলেন, “বিএনপি এদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে। নির্বাচনে ভোটের কালি এখনো আঙুল থেকে মুছে যায়নি, অথচ তার আগেই দেশনায়ক তারেক রহমান নির্বাচনী সময়ে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি—তা বাস্তবায়িত হয়েছে। কৃষক কার্ডের কথাও বলেছি—সেটিও চালু হয়েছে।তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক থাকলেও এসব চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দল এসব উন্নয়নের প্রশংসা না করে এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনগণকে বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের এক পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ থাকারও নির্দেশ দেন।জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে (প্রি-পাইলটিং) দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় প্রথম ধাপে ৫০০ জন কৃষককে এ কার্ড প্রদান করা হয়।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নেছারাবাদে মোট ৩,০৫৫ জন কৃষক-কৃষাণীকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ২,০৬৫ জন পুরুষ এবং ৯৯০ জন নারী রয়েছেন।কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। বিশেষ করে কৃষি অধ্যুষিত বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী ব্লকে মোট ৩,০৫৫ জন কৃষকের মাঝে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। এদিকে, দেশের ১১টি উপজেলার মধ্যে নেছারাবাদকে অন্তর্ভুক্ত করায় স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।